যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে বড় অর্জন বললেন পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটিকে একটি বড় ও সম্মানজনক অর্জন বলে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ১৮ জুন স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি ও ৬০ দিন আলোচনার বিধান রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিকে দেশের জন্য একটি বড় অর্জন এবং সম্মানজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। গত ১৮ জুন এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকটি সম্পাদিত হয়। ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকে একটি যুদ্ধবিরতি এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিন আলোচনার বিধান রাখা হয়েছে। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটার পথ তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই চুক্তিটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন লাভ করেছে। দেশের সর্বোচ নিরাপত্তা নীতিনির্ধারক মহলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়।
চুক্তির বিষয়ে দেশের ভেতরে বা বাইরে কোনো সমালোচনা বা সন্দেহের জবাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোরালো মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেয় এমন একটি ধারাও কেউ খুঁজে পাবে না; সব প্রতিশ্রুতি মূলত অপর পক্ষের সম্পর্কিত।
তবে চুক্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সমালোচনাও করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ইরানের স্কুল, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চালানো হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আমরা কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথা নত করব না। আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব এবং তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো জবাব দেব।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন ইরানের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেছেন যে, আজ আমরা যখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি, তখনই যুদ্ধ শেষ করা শ্রেয়। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অর্জিত এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক এবং ৬০ দিনের আলোচনার বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








