যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের তেল রফতানি ঘিরে উত্তেজনা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির জবাবে কড়া অবস্থান নিয়েছে চীন। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত ৬০ জন ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার এই পদক্ষেপে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বৈরিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এই ৬০ ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপ নিলেও তেহরানও বসে নেই। ইরানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আলী মাদানিসাদে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা আর আগের মতো প্রতিরক্ষামূলক নেই; শত্রুদের এখন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন পক্ষ থেকেও সামরিক শক্তির ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি বা ইরানের আশপাশে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা আমরা কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছি না।
এই পুরো সংকটে একটি বড় অংশীদার হিসেবে জড়িয়ে পড়েছে চীন। চীন ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল রফতানির অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থের ওপরও।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, চীন ও ইরানের সহযোগিতা সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। চীন এককভাবে চাপানো অবৈধ নিষেধাজ্ঞার চরম বিরোধী। চীন তার নিজস্ব অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।








