যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের আহ্বান ইরানের রাষ্ট্রপতির
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে আলাপের পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন এবং এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেহেতু আমরা এখন শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছি, তাই এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা আমাদের জন্য ভালো। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের শক্তিমত্তার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে। সবাই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তারা এখন বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত।
সমঝোতা ও চুক্তির বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে মাসুদ পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, এই সমঝোতার একটি ধারাও তাঁরা দেখাতে পারবেন না, যেখানে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে; বরং সব প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষকেই পূরণ করতে হবে। এই বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্টেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমরা আসলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি। হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের স্থলভূমিসহ পুরো অঞ্চলের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। অঞ্চলটি দিয়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়ে থাকে। এর মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী এবং ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কট বেসেন্ট এবং আলী আবদুল্লাহির সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও নানা আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই টানাপোড়েন নিরসনে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








