যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের মুখে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান বা 'ইকোনমিক ডি-ডে' চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। অন্যদিকে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে চীন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের একটি অর্থনৈতিক অভিযান বা 'ইকোনমিক ডি-ডে' শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অঙ্গনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কলাম বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। ওই কলামে তেহরানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এই অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর কথা বলা হয়েছে। মূলত মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের কথাই সেখানে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই প্রসঙ্গে একটি বড় দাবি করেছেন। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন যে, ইরান পুরোপুরি ধসে পড়ছে! ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিশ্বশক্তি চীন। এএফপি, রয়টার্স, সিএনবিসি ও গ্লোবাল টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনা নিয়মিত কভার করছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চীন সরকারও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেইজিংয়ে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন যে, চীন বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, চীন তার নিজেদের বৈধ অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্য একটি কূটনৈতিক তত্পরতার অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ে এই শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকির জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান আরও একটি জোরালো মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাজেট, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে না। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল উত্তেজনা বাড়ায় এবং এতে কারও স্বার্থ রক্ষা হয় না। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








