যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইরানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে সম্প্রতি নতুন এক প্রচারণা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার নীতিমালার আওতায় যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এমন আগ্রাসী অর্থনৈতিক নীতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপকে এক ধরনের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধ' হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসনের এই অর্থনৈতিক চাপিয়ে দেওয়া লড়াই কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক আগ্রাসনে যেসব দেশ সরাসরি অংশ নেবে বা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে ইরান। এই প্রসঙ্গে দেশটির বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি টিভিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য করেছেন।
মোহসেন রেজায়ি তাঁর ওই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নেবে, তেহরান সরকার সেই সব দেশকে সরাসরি নিজেদের শত্রু হিসেবে গণ্য করবে। ইরানের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই অবস্থান থেকে একচুলও নড়চড় করা হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রাখা হলে ইরান শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক জবাব দিয়েই ক্ষান্ত থাকবে না। মোহসেন রেজায়ি সাক্ষাৎকারে আরও উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভাব্য যেকোনো নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন শুরু হলে তেহরান সামরিক ও কৌশলগত উপায়েও কঠোর জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এই কঠোর প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য প্রধান পরিবহন রুটগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বিরাট অংশ পরিচালিত হয়, যা বন্ধ বা আক্রান্ত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
শুধু সামুদ্রিক রুট বা তেলবাহী ট্যাংকারই নয়, এর পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে তেহরান। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত এই সংবাদে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মুখে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পিছপা হবে না।








