যশোরে অবৈধ সার মজুত ও বিক্রির দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির দায়ে এক দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দকৃত সার সরকারি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যশোরের চৌগাছা উপজেলার পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এই কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
অভিযানে ৪৫ বছর বয়সী খাইরুল ইসলাম নামক এক দোকানিকে অভিযুক্ত করা হয়। জি, এম, এ, মুনিব এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এবং মামলার পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিস, চৌগাছা থানা, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং উপজেলা সার ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের সময় অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম সার বিক্রেতা হিসেবে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। জি, এম, এ, মুনিব জানান, অভিযানে খাইরুল ইসলাম সার বিক্রেতা হিসেবে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই আদালত তার সার জব্দ করে সরকারি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন। এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার মজুত করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই অভিযানে মোট ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি অবৈধ সার জব্দ করা হয়েছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসব সার নিজের দোকানে মজুত ও বিক্রি করে আসছিলেন খাইরুল ইসলাম। আদালতের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর তিনি অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আইন অমান্যের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
জব্দকৃত ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার নষ্ট বা ফেলে না দিয়ে কৃষকদের কল্যাণে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই জব্দকৃত সারগুলো যেন অবিলম্বে সরকারি ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।
সার বিক্রির পর প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের কৃত্রিম সংকট রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে সার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।








