যমুনা নদীর ইতিহাস ও ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তনের কথা
১৭৮৭ সালের এক প্রলয়ংকরী বন্যার মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ তার পুরোনো গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণমুখী নতুন পথ বেছে নেয়। এই নতুন চ্যানেলটিই যমুনা নদী নামে পরিচিত, যা সিরাজগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৬· ১ মিনিট পড়া

যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নডের নিম্নভাগের একটি নতুন চ্যানেল, যা সিরাজগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীমাতৃক এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি এবং নদীগুলোর গতিপ্রকৃতির ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। ঐতিহাসিক তথ্য ও গবেষণায় দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তন এবং যমুনা চ্যানেলের সৃষ্টির পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রাকৃতিক ঘটনা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৭৬৩ থেকে ১৭৭৩ সালের মধ্যে জেমস রেনেল বাংলার নদীগুলো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভে বা জরিপ পরিচালনা করেছিলেন। এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ১৭৭৯ সালে তার বিখ্যাত 'অ্যাটলাস অব বেঙ্গল' প্রকাশিত হয়। জেমস রেনেলের সেই জরিপ এবং মানচিত্রের তথ্য বাংলার নদী ব্যবস্থার ঐতিহাসিক রূপ বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
জেমস রেনেলের জরিপের কিছুকাল পরেই বাংলার নদী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ১৭৮৭ সালে ঘটে যাওয়া একটি বড় বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ তার পুরোনো গতিপথ থেকে সরে যায়। এই বন্যার প্রভাবে নদটি দক্ষিণমুখী একটি নতুন পথ গ্রহণ করে প্রবহমান হতে শুরু করে, যা বর্তমান ভূগোলে এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
ব্রह्मপুত্রের এই গতিপথ পরিবর্তন এবং এর ফলে নতুন যমুনা চ্যানেল পুরোপুরি গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি এক দিনে সম্পন্ন হয়নি। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, ১৭৮৭ সালের বন্যার পর দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং প্রায় ১৮৩০ সালের দিকে যমুনা চ্যানেলের পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
কালের পরিক্রমায় ব্রহ্মপুত্রের নতুন এই গতিপথ বা যমুনা নদী বাংলার জনপদ ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। সিরাজগঞ্জসহ সংলগ্ন এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটি নিয়ে প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঐতিহাসিক আলোচনা ও গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সুলতানা শান্তা এবং জেমস রেনেলের কাজের সূত্রে এই নদী পরিবর্তনের ইতিহাস আজ আরও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।








