মোহাম্মদপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী চুয়া সেলিম, জয় ও বোমা রতন গ্রেফতার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। ২১ আগস্ট বছিলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব-২। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বড় সন্ত্রাসী চক্রের মূল তিন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া তিন সন্ত্রাসী হলেন— চুয়া সেলিম, জয় ও বোমা রতন। এই তিন অপরাধীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের ফলে মোহাম্মদপুর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে ২১ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বছিলায় অবস্থিত র্যাব-২ এর কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পুরো অভিযان এবং গ্রেফতারকৃতদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বছিলা র্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, এই তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের পেছনে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনা ছিল, যা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে র্যাব-২ এর সদস্যরা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চুয়া সেলিমের বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিভিন্ন থানায় সর্বমোট ৩৬ মামলায় অভিযুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অপর সন্ত্রাসী জয় ১০ মামলায় অভিযুক্ত এবং মো. রতন ওরফে বোমা রতন ২০ মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের এই দীর্ঘ অপরাধের ইতিহাস মোহাম্মদপুর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য দায়ী ছিল।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১১০ গ্রাম হেরোইন, একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি। এসব অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত অস্ত্র, মাদক এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। র্যাব-২ জানিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং দমনে তাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।








