মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও তেল বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, তেল বাণিজ্য ও ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যের সিংহভাগ অংশ এখন রুবল ও রুপিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নয়াদিল্লির শীর্ষপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে প্রতিরক্ষা খাত, পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা, তেল বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে স্থান পায়। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় রাশিয়া ইতোমধ্যে ভারতকে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। দুই দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ওই মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করে, যা ছিল ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বৈশ্বিক বাজারে যখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি আমদানির এই পরিসংখ্যান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তবে তেল আমদানির এই উচ্চ হার পরবর্তী মাসে কিছুটা হ্রাস পায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কিছুটা কমে আসে। আগস্ট মাসে এই আমদানির পরিমাণ নেমে আসে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বাজারের বিভিন্ন অস্থিরতার মাঝেও ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বজায় রয়েছে।
বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রা বাজারের ওঠানামার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেনই মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুবল ও রুপিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পথ আরও সুগম হয়েছে।
পরমাণু শক্তি সহযোগিতার বিষয়টিও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিগত বছরগুলোতে পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগগুলো গতিশীল রয়েছে। বর্তমান বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সব মিলিয়ে, মোদি ও পুতিনের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে শুরু করে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং তেল আমদানির মতো বাস্তব বিষয়গুলো এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত ও রাশিয়া তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।








