মেটার বিরুদ্ধে শিশু আসক্তির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে একটি ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। ২৯টি অঙ্গরাজ্য এই মামলা লড়ছে এবং ৬ সপ্তাহব্যাপী এই বিচারে মার্ক জাকারবার্গ ও অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে অবস্থিত একটি ফেডারেল আদালতে মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং তাদের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্ত করার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকার্য শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট এই চাঞ্চল্যকর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই আইনি লড়াইয়ে মেটার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা লড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চত্বরে এবং আইনি মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরে মেগান ও’নিল বলেন, মেটা প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করা, তাদের বেশিক্ষণ আটকে রাখা, তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং জনসাধারণের কাছে সত্য গোপন করা। এই বিষয়গুলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বাদীর পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন।
অন্যদিকে, মেটার পক্ষ থেকে এই অভিযোগের জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কোম্পানির অবস্থান ব্যাখ্যা করে পল স্মেড বলেন, মানুষ যদি তাঁদের সেবা পছন্দ না করে, তাহলে তাঁরা ভালো করতে পারবেন না, এটা তাঁরা বোঝেন। মেটার দাবি, তাদের সেবা ব্যবহারকারীরা স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করে থাকেন।
আসন্ন এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এই বিচার চলাকালীন আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের নাম জড়িয়ে রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন মেরি রডি, রাইলি ব্যাসফোর্ড এবং ফ্রান্সিস হগেন। তাদের ভূমিকা বা বক্তব্যও এই বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ছয় সপ্তাহ ধরে এই বিচারকার্য পরিচালিত হবে বলে নির্ধারিত হয়েছে। এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মেটার অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে এবং শিশুদের ওপর এর প্রভাব কী—তা নিয়ে বিস্তারিত আইনি বিতর্ক ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।








