মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী
জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, ফ্যাসিবাদের ১৮ বছরে বাদপড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের নামও যাচাই-বাছাই করে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদ এবং নতুন করে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানানো হয়। ঢাকা থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, সংসদ অধিবেশনে মেহেরপুর-২ আসনের সদস্য মো. নাজমুল হুদার সুনির্দিষ্ট একটি প্রশ্নের লিখিত ও মৌখিক জবাবে মন্ত্রী এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের ১৮ বছরে বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে কেবল বিরোধী দলের রাজনীতি করার অপরাধে তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া নানা অনিবার্য কারণে সে সময় অনেক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেননি। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনা ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সংসদকে আরও জানান যে, বাদপড়া ও বঞ্চিত সেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে তালিকাভুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদ না পড়েন। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নাম সসম্মਾਨে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালিকা হালনাগাদের এই কার্যক্রমে কেবল নতুন অন্তর্ভুক্তিই নয়, বরং ভুয়া নাম বা অনিয়ম প্রতিরোধের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির পাশাপাশি যারা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে অতীতে তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এমন অবৈধ অন্তর্ভুক্তিগুলোর বিষয়ে বর্তমানে নিবিড় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যারা অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হবেন, তাদের নাম সরকারি ও প্রামাণিক তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ ফোরামে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।








