সখীপুরে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা মন্ত্রীর
টাঙ্গাইলের সখীপুরে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আটিয়া বন আইন বাতিল করে সখীপুরবাসীকে মুক্তি দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টাঙ্গাইলের সখীপুর ডাকবাংলো চত্বরে গতকাল মঙ্গলবার সখীপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সখীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসছে এবং এই নির্বাচন হবে জনগণের ভোটের নির্বাচন। তিনি বিগত সময়ের নির্বাচন প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তাঁরা গত তিনটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দেখেছেন যেখানে আওয়ামী লীগ নমিনেশন দেয় আর কেন্দ্রে গিয়ে সিল মেরে পাস করিয়ে আনে এবং কোনো যোগ্য প্রার্থীর সুযোগ থাকে না।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, নির্বাচন হবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং এবার কোনো সিল হবে না, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। তিনি ঘোষণা দেন যে, তাঁর দল বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল অথবা নিরপেক্ষ ব্যক্তিরাও সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রিয় সখীপুরবাসীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের দলের ভেতর থেকে যারা মেধাবী, যাঁরা শিক্ষিত, যাঁরা জনপ্রিয়, তাঁদের মধ্য থেকে প্রতিনিধিত্ব করবার জন্য চেয়ারম্যান নমিনেশন দেওয়া হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দলের ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। তাঁরা দেখে শুনে বুঝে মনোনয়ন দেবেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, সেখানে কেউ দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। তিনি আরও বলেন যে, সরকার তখনই শক্তিশালী হয় যখন দল ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং কেউই যেন অধৈর্য না হন বা দলের বাইরে চিন্তা না করেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে সকলের সামনে সুযোগ আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরবাসীর উন্নয়নের প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, 'পাঁচ বছর আপনাদের সেবা করবার জন্য আমাকে আস্থায় নিয়ে ভোট দিয়েছেন। আমি যাতে আপনাদের সেবা করতে পারি, সে জন্য ১০টি ইউনিয়নে আপনারা যদি আমাকে ১০ জন চেয়ারম্যান উপহার দেন, আমি আপনাদের ইনশা আল্লাহ উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দেব।' তিনি আরও বলেন যে, তিনি আজ সবার কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করলে তিনি উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে পারবেন। একটি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান না থাকলে ভিন্ন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে, তিনি চান না তাঁর ১০টি ইউনিয়ন এবং এই পৌরবাসী আগামী পাঁচ বছর বঞ্চিত হোক।
সভায় দীর্ঘদিনের আলোচিত আটিয়া বন আইন নিয়ে জোরালো বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান যে, তাঁরা আটিয়া বন আইনের কারণে নির্যাতিত এবং পর্যুদস্ত। উল্লেখ্য যে, এই আইনটি করা হয়েছিল ১৯৮২ সালে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন যে, তিনি ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে দুবার কথা বলেছেন এবং বনমন্ত্রীর সাথেও কথা বলেছেন।
যত দূর সম্ভব এই আইন বাতিল করে সখীপুরবাসীকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধান অতিথি আহমেদ আযম খান বলেন যে, তিনি সব সময় জনগণের পাশে আছেন। বিএনপি জনগণের দল এবং এটি সব সময় জনগণের পাশে থাকবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।








