মিরপুরে মুড়ি মাখা বিক্রি করে আত্মনির্ভরশীল নাজমুল
২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকা এসে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে ভ্যানগাড়িতে মুড়ি মাখা বিক্রি শুরু করেন নাজমুল। বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কীভাবে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা যায়, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন নাজমুল। ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্য কোনো পেশার পেছনে না ছুটে তিনি জীবিকার তাগিদে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে তিনি রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনকে বেছে নেন তাঁর কর্মক্ষেত্র হিসেবে।
রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে একটি ভ্যানগাড়িতে তিনি মুড়ি মাখা বিক্রি শুরু করেন। শুরু থেকেই তাঁর সততা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে ধীরে ধীরে সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে থাকে। বর্তমান সময়ে তাঁর এই ভ্যানগাড়ির ব্যবসা শুধু তাঁর নিজেরই নয়, বরং আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, তাঁর এই ছোট্ট দোকানে বর্তমানে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
নাজমুলের ভ্যানগাড়ির মুড়ি মাখা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তিনি প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ প্লেট মুড়ি মাখা বিক্রি করেন। তাঁর দোকানে বিভিন্ন ধরনের মুড়ি মাখা পাওয়া যায়, যার একেকটি প্লেটের দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০, ৬০; এমনকি ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সুস্বাদু মুড়ি মাখা বিক্রির মাধ্যমে তাঁর প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকার মুড়ি বিক্রি হয়।
প্রতিদিনের এই বেচাকেনার হিসাব অনুযায়ী, মাস শেষে তাঁর আয় দাঁড়ায় প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন এলাকার ক্রেতাদের কাছে তাঁর এই দোকানটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। সাধারণত প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে নাজমুলের এই মুড়ি মাখার দোকানটি।
নিজের ব্যবসা নিয়ে নাজমুল বেশ আশাবাদী। ব্যবসার শুরুর দিনগুলো এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আসলে ব্যবসা ছোট হোক বা বড়, সব ব্যবসা একটা পর্যায়ে যেতে বা দাঁড়াতে সময় লাগে। আর কোনো ব্যবসারই বিক্রিটা ধরাবাঁধা থাকে না। কোনো কোনো দিন বিক্রি ছয় হাজার টাকা হয়, আবার কখনো একটু কমে যায়।'
ভবিষ্যতেও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাজমুলের। বর্তমান অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও তিনি থেমে থাকতে চান না। তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রসঙ্গে নাজমুল জানান, 'আপাতত আমি ব্যবসার মান ধরে রাখা আর কাস্টমারদের ভালোবাসা অর্জনের ওপরই নজর দিচ্ছি। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো এই দোকানটাকে আরও বড় করে দাঁড় করাতে পারি।' প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদনে নাজমুলের এই আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার গল্প উঠে এসেছে।








