মানিকগঞ্জে কৃষকদের জন্য নির্মিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ অব্যবহৃত
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব হিমাগার বর্তমানে স্থানীয় পাইকার ও বাগান মালিকের দখলে রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সরকারি অর্থে দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা হলেও তা কৃষকদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ায় এবং কৃষকদের কোনো উপকারে না আসায় এটি উল্টো তাদের জন্য আর্থিক বোঝkর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয় এবং এর সর্বোচ্চ কৃষিপণ্য ধারণক্ষমতা ১০ টন। অন্যদিকে, একটি সোলারচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এই হিমাগারগুলোর মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবেন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সংশ্লিষ্টদের।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে মেদুলিয়া গ্রামের মিনি কোল্ড স্টোরেজটি উদ্বোধন করেন। ওই মেদুলিয়া গ্রামের এই প্রকল্পটিতে ১৫ জন কৃষক সদস্য ছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য এগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না।
সরেজমिन দেখা গেছে, কৃষকদের জন্য নির্মিত এই সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। মেদুলিয়া গ্রামের মিনি কোল্ড স্টোরেজটি বর্তমানে কৃষকদের পরিবর্তে স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ জামসা এলাকায় অবস্থিত অন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজটি ব্যবহার করছেন আতিক নামের এক স্থানীয় বাগান মালিক।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থে নির্মিত এই দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজে স্থানীয় কৃষকদের প্রবেশাধিকার বা ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩৬ লাখ টাকার এই সরকারি বিনিয়োগের সুফল প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, বরং হিমাগারগুলো অন্য ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের মধ্যে মো. সজল আলী, আশরাফুল হক, শরীফুল ইসলাম লাভলু, জিহাদ আলী এবং আব্দুল মান্নানের মতো ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে নানা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কৃষকদের জন্য নির্মিত এই মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং সঠিক তদারকির অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এই হিমাগারগুলোর অব্যবহারের ফলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং এটি তাদের জন্য একটি বাড়তি আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। মেদুলিয়া ও দক্ষিণ জামসা এলাকার এই দুটি হিমাগার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।








