মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বইয়ের থেরাপি বা বিবলিওথেরাপির প্রসার
বই বা সাহিত্যের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আরোগ্যের সৃজনশীল উপায় হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিবলিওথেরাপি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এর উৎপত্তি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এই থেরাপির নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আরোগ্যের একটি সৃজনশীল উপায় হলো বিবলিওথেরাপি, যা মূলত বই বা সাহিত্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা এবং এর প্রয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বজুড়ে এই পদ্ধতির চর্চা লক্ষ্য করা যায়।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ধারণা করা হয় যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিবলিওথেরাপির উৎপত্তি হয়েছিল। যুদ্ধাহত সৈনিকদের মানসিক অবসাদ ও ট্রমা কাটাতে বই পড়ার যে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছিল, সেখান থেকেই এই ধারার সূচনা বলে মনে করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি স্বীকৃত ও সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
যুক্তরাজ্যের অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য রিডিং এজেন্সি’ ২০১৩ সাল থেকে ‘রিডিং ওয়েল’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচির আওতায় ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতার মতো নানা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পঠিত ও সহায়ক বইয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীদের মানসিক আরোগ্যে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা এনএইচএস এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবাটি পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম আলো এবং নকশা পত্রিকাতেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যানে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’–এ বিবলিওথেরাপি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিখ্যাত গবেষক ট্রোসকিয়াঙ্কো প্রায় ৯০০ জনের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন, যা এই ক্ষেত্রের পরিধি আরও স্পষ্ট করে।
যুক্তরাজ্যের দেশব্যাপী কার্যক্রমে দেখা যায়, রিডিং ওয়েল কর্মসূচির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখের বেশি বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বইয়ের এই জাদুকরী ছোঁয়া মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং বিষণ্নতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কার্যক্রমে পেক্সেলস ও বিটসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সহযোগিতা রয়েছে।
বিবলিওথেরাপির এই কার্যকারিতা প্রমাণে এলিজাবেথ রাসেল, এলা বার্থউড, ন্যান্সি পার্ল এবং অ্যান্ড্রু শুম্যান ও জেমা জলিদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গবেষকদের অবদান রয়েছে। তাদের কাজের মাধ্যমেই বই পড়ার অভ্যাসকে থেরাপি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে এবং বিশ্বজুড়ে এর পরিধি বিস্তার লাভ করছে।








