মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সম্প্রতি নতুন তথ্য উঠে এসেছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫ গ্রাম প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। এর প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পরিবেশ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কারণে মানুষের শরীরে প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে ক্ষুদ্রাকৃতির প্লাস্টিক কণা। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষকদের মতে, পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে অভিহিত করা হয়। এই অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো বর্তমানে মানুষের অজান্তেই নানা উপায়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রথম আলো, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড এবং দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের বেশ কিছু প্রধান উপায় রয়েছে। মূলত খাদ্য ও পানীয়, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং ত্বক ও প্রসাধন—এই তিন প্রধান উপায়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে। দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী, খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে এবং প্রতিনিয়ত নিঃশ্বাসের সাথে এই ক্ষতিকর কণাগুলো মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে যাচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধু প্রবেশ করাই নয়, মানবদেহের বিভিন্ন সংবেদনশীল অঙ্গ ও টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। রক্তনালির প্লাক, ফুসফুস, যকৃৎ, মস্তিষ্ক, প্রজনন অঙ্গ এবং মাতৃগর্ভের ফুল বা প্লাসেন্টাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব অঙ্গে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতার জন্ম দিচ্ছে।
ডা. আফলাতুন আকতার জাহান সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ও তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫ গ্রাম প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। একটি ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমান প্লাস্টিক মানুষ প্রতি সপ্তাহে শরীরের ভেতরে গ্রহণ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।
দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় রক্তনালিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সাথে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, রক্তনালিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি। এই alarming তথ্য চিকিৎসা গবেষক ও সাধারণ মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঢাকা, বাংলাদেশ সহ বিশ্বজুড়েই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। মানুষের শরীরের ভেতরে এই ক্ষতিকর কণাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। গবেষক ও চিকিৎসকরা খাদ্য গ্রহণ, পানীয় ব্যবহার এবং প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রবেশ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়।








