মাদ্রাসার সরকারি বই বিক্রির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তদন্ত কমিটি
রামগোপালপুর ইউনিয়নের পুম্বাইল ফজলুল উলুম করিম মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রায় দশ হাজারের মতো বই হ্যান্ডট্রলিতে তোলার ওই দৃশ্য নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

রামগোপালপুর ইউনিয়নের পুম্বাইল ফজলুল উলুম করিম মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির একটি ভাইরাল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে সরকারি পাঠ্যবই হ্যান্ডট্রলিতে তোলা হচ্ছে। এই ঘটনার পর জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং তৎক্ষণাৎ এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ইত্তেফাক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা পুম্বাইল ফজলুল উলুম করিম মাদ্রাসায় সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আলোচিত এই ঘটনায় প্রায় দশ হাজারের মতো বইয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যবই হ্যান্ডট্রলিতে তোলা হলো এবং এর পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটন করতেই মূলত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পক্ষ থেকেও বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুম্বাইল ফজলুল উলুম করিম মাদ্রাসার আব্দুল আলী খান দাবি করেছেন যে, বই বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। তিনি জানিয়েছেন, মাদ্রাসায় এখনো ২০২৫-২৬ শিক্ষবর্ষের অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যবই রয়ে গেছে। ছড়িয়ে পড়া মাদ্রাসার ভিডিওর নমুনা তাদের মাদ্রাসার মতোই দেখতে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে এটি তাদের মাদ্রাসার বই বিক্রির ভিডিও কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান এই বিষয়ে তার মন্তব্যে জানান, ওই ভিডিও দেখার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলেছেন যে এ বছর কোনো বই বিক্রি হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি বই বিক্রির সঠিক নিয়মটা এ মুহূর্তে তিনি বলতে পারছেন না। যেহেতু বই বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে, তাই তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমানে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা। কমিটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে এবং প্রতিবেদন জমা পড়লে পুম্বাইল ফজলুল উলুম করিম মাদ্রাসার সরকারি পাঠ্যবই হ্যান্ডট্রলিতে তোলার এই ভিডিওর আসল রহস্য পরিষ্কার হবে এবং প্রকৃত সত্য ঘটনা সবার সামনে উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








