মতলব উত্তরে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি ও অ্যান্টিভেনম সংকট
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাপের উপদ্রব এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সম্প্রতি সাপের উপদ্রব এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই উপজেলার মোট জনসংখ্যা চার লাখের বেশি। এর মধ্যে অর্ধলাখের বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। এছাড়া এই এলাকায় রয়েছে ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধনাগোদা সেচ প্রকল্প। এসব ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে এই অঞ্চলে সাপের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।
হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে গড়ে ২০ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। শুধু এই হাসপাতালেই নয়, এর পার্শ্ববর্তী চারটি হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে আরও ১৪ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে যান। সব মিলিয়ে এই এলাকায় বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন।
তবে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের মারাত্মক সংকট রয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের বিধান বা অনুমতি রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায়, এই সীমিত বিধানের কারণে চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাপের কামড়ের ঘটনার বিষয়ে চিকিৎসকরা সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে ডা. মোবারক হোসেন বলেন, "বাংলাদেশে জুন, জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। কারণ, এ সময়ে সাপ প্রজনন ও শিকারের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।"
সাপে কাটার পর করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকরা জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ডা. শাহরিয়ার হোসেন বলেছেন, "সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে গেলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা জীবনঘাতী হতে পারে।"
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনমের বরাদ্দ ও সংরক্ষণের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।








