ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে ৬ দিন পর সচল হলো নাসিরাবাদ মেইল
ইঞ্জিন সংকটের কারণে ছয় দিন বন্ধ থাকার পর রোববার সন্ধ্যায় ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে পুনরায় চালু হয়েছে ময়মনসিংহ মেইল বা নাসিরাবাদ মেইল। এতে এই রুটের ২৭টি স্টেশনের যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইঞ্জিন সংকটের কারণে টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে পুনরায় চালু হয়েছে ট্রেন চলাচল। গত রোববার সন্ধ্যায় ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিং মেইল তথা নাসিরাবাদ মেইল ট্রেনটির চলাচল আবার শুরু হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই ট্রেনটি পুনরায় চালুর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অবসান হতে চলেছে।
এর আগে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেনটির চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলরুটের আওতাধীন ২৭টি স্টেশনের সাধারণ যাত্রী, দিনমজুর এবং বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নিত্যদিনের যাতায়াত ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ছয় দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে একটি মেরামতকৃত ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনটির চলাচল পুনরায় চালু করা হয়। রেলওয়ের কারিগরি দল ইঞ্জিনটি সচল করার পর রোববারের নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
তবে পুনরায় চালুর প্রথম দিনেই ট্রেনটি নির্ধারিত সময় থেকে বেশ কিছুটা বিলম্বে চলাচল করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেনটির বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে চট্টগ্রাম ছেড়ে আসে।
দেরিতে ছাড়ার কারণে যাত্রাপথেও ট্রেনটি সময় হারিয়েছে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময় রাত ১১টা ৪২ মিনিটের পরিবর্তে ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে এসে পৌঁছায় দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে (রাত ৩টা ৩০ মিনিটে)।
ট্রেনটি দেরিতে পৌঁছলেও এটি পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেছে। রইছ উদ্দিন নামের এক যাত্রী তার অনুভূতির কথা প্রকাশ করে জানান, ট্রেন বন্ধ থাকায় তাকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ভৈরব পর্যন্ত আইতে আড়াই শ টেহা খরচ হইয়া গেছে। নাসিরাবাদ থাকলে এই টেহা লাগত না। বাড়ি থাইক্কা আইতে না পারলেও এখন যাইতে পারুম—এটাই আনন্দ।”
প্রথম আলো সূত্রে জানা যায়, এই ট্রেন চালুর সঙ্গে ইব্রাহিমাবাদ, সাদেকুর রহমান, মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, ইউসুফ, রইছ উদ্দিন এবং শামিম মিয়াদের মতো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নানা অভিজ্ঞতা ও দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে। ট্রেনটি পুনরায় সচল হওয়ায় এখন থেকে এই রেলরুটের যাত্রীরা নিয়মিতভাবে তাদের যাতায়াত অব্যাহত রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।








