ভুল চাহিদায় বাদ পড়া ১৯৯ শিক্ষকের পুনর্বিবেচনা ও সুপারিশের নির্দেশ
ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদার কারণে নিয়োগবঞ্চিত হওয়া ১৯৯ জন যোগ্য শিক্ষককে পুনর্বিবেচনা করে রি-সুপারিশ করতে এনটিআরসিএকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভুল চাহিদার কারণে নিয়োগবঞ্চিত হওয়া যোগ্য শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদার শিকার হয়ে বাদ পড়া ১৯৯ জন শিক্ষককে পুনরায় বিবেচনা করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পূর্বে যেসব প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করা হয়েছিল, মূলত সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পদ শূন্য ছিল না। ফলে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। এই জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন নড়েচড়ে বসেছে।
গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভাপতিত্ব করেন। সভায় দেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘটে যাওয়া ভুলত্রুটি সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আলোচ্য সভায় সুনির্দিষ্টভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়টি উঠে আসে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই দুটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যেসব শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের চাহিদা প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে তাদের সুপারিশ করা হয়েছিল, বাস্তবপক্ষে সেখানে কোনো পদ খালি ছিল না। ভুল চাহিদার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা সুপারিশ পেয়েও নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেননি।
এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অত্যন্ত কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ১৯৯ জন শিক্ষককে পুনর্বিবেচনা করে সঠিক প্রক্রিয়ায় রি-সুপারিশ করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপে ভুক্তভোগী শিক্ষক সমাজের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও কর্মসংস্থান ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এনটিআরসিএ এবং টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে এখন এই রি-সুপারিশের কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে ভুল চাহিদার কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।








