ভারতের স্কুল শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোর দাবিতে অভিনব বিক্ষোভ
ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যে শিক্ষার্থীরা ভালো স্কুল ভবন, শিক্ষক এবং সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের বিভিন্ন স্থানে স্কুল শিক্ষার্থীরা ভালো অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের তথ্যানুযায়ী, ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যে শিক্ষার্থীরা স্কুলগুলোর বেহাল দশার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু করেছে। মূলত চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়।
ভারতের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে দেড় মিলিয়ন বা ১৫ লাখ স্কুলে ২ কোটি ৪৭ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ স্কুল পরিচালনা করে কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার। ২০২৫-২০২৬ সালের সরকারি হিসাব বা অডিট অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ২৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ সরকারি স্কুলের অবস্থা খুবই শোচনীয়।
এই সংকটের অংশ হিসেবে ভারতের উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত ২২ আগস্ট বিক্ষোভ করেছে। এই বিদ্যালয়টিতে মোট ১২২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল একটি পুরনো দুর্ঘটনা; ২০২৩ সালে এই বিদ্যালয়ের একটি প্রাচীর ধসে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল। সেই ভীতি এবং নতুন স্কুল ভবনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন গড়ে তোলে।
সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়া এই আন্দোলন সম্পর্কে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছে। সে জানিয়েছে, এই ভয়ের কারণে তারা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারত না, আর সেই কারণেই তারা সবাই মিলে প্রতিবাদে নেমেছিল। পরে ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক অবস্থী শিশুদের আশ্বস্ত করেন যে, তাদের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এই আশ্বাসের পর প্রিয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, সে খুশি এবং তারা একটি নতুন ভবন পেতে চলেছে। কারণ তারা আশঙ্কা করত যে স্কুল ভবনটি যেকোনো দিন ভেঙে পড়তে পারে এবং এর অবস্থা খুবই খারাপ।
আরেক শিক্ষার্থী মনোজ জানিয়েছে, এই স্কুলে পড়াশোনা করা কতটা কঠিন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। স্কুলে কোনো বিদ্যুৎ নেই, ফলে গরম ও আর্দ্র গ্রীষ্মের দিনে কোনো ফ্যান চলে না। তাদের কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই। পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হয়। এসব কারণেই তারা প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা নাগাসিimha রাও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, শিশুরা তাদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছে। তারা শিক্ষক, বসার বেঞ্চ, স্কুল ভবন, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ এবং শৌচাগার চাইছে। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দুর্ভাগ্যবশত দীর্ঘকাল ধরেই স্কুল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো ও জনবল অনুপস্থিত রয়েছে এবং এটি দেশের অধিকাংশ সরকারি স্কুলেরই গল্প। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এসব স্কুলে কি গরিব শিশুরা পড়াশোনা করে বলেই এমন দশা?
উল্লেখ্য, এর আগে জিন জি (Gen Z) প্রজন্মের প্রতিবাদের জেরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। বর্তমান এই আন্দোলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ককরোজ জনতা পার্টি (সিজেপি), ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং সর্বোদয় ইন্টার কলেজের নামও এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। তবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ভারতের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্রকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।








