বোয়ালখালীতে সাবস্টেশন বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক গ্রাহক
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলায় সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার ও ফিডার বিস্ফোরণের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় এক লাখ গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর টিকে ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাবস্টেশনটির একটি ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং একই সাথে ৩৩ কেভি ফিডারের দুটি কারেন্ট ট্রান্সফরমার (সিটি) বিস্ফোরিত হয়। এই আকস্মিক বিস্ফোরণের ফলে পুরো সাবস্টেশনটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এই সাবস্টেশনটির মাধ্যমে মূলত বোয়ালখালী ও পটিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুই উপজেলার প্রায় এক লাখ গ্রাহক বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকার গ্রাহকদের জন্য সাধারণত প্রায় ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এই বিষয়ে পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় গরমের মধ্যে তাকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে ও ঘামে তার পরীক্ষার খাতাও ভিজে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় আছাদিয়া বেকারির মালিক মোহাম্মদ কায়েসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে তার কারখানায় ২০ হাজার টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ কায়েস বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান যে ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে এবং এটি ঠিক করতে সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন যে তারা এটি সচল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত সাবস্টেশনটির এই বড় ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং তা পুনরায় সচল করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পিজিসিবি ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার মেরামত বা সম্পূর্ণ সচল করতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ততদিন পর্যন্ত গ্রাহকদের এই বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই দিন কাটাতে হবে।








