বেনাপোলে বিদেশি ইলিশ আমদানির নামে চলছে অভিনব প্রতারণা
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ। কম দামে আসা এসব বিদেশি ইলিশ দেশি বলে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করায় প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন রুট এবং বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশি ইলিশ মাছ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউনের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এই আমদানির ফলে দেশের স্থানীয় মাছের বাজারে নানা ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু the প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের আশওয়াদুল আলম জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা করেই তারা কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন। এর মধ্যে জুলাই মাসে ইলিশ আমদানির পরিমাণ ছিল ২৯,৪৪০ কেজি এবং যার আমদানি মূল্য ছিল ৩৫,৪৮,৭৯৬ টাকা। অন্যদিকে আগস্ট মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩,২৩,৩৪৬ কেজিতে এবং এর আমদানি মূল্য ছিল ৬,৫৭,৪৫,৭১৪ টাকা। এই দুই মাসের মোট আমদানির পরিমাণ ৩,৫২,৭৮৭ কেজি এবং ঘোষিত মোট আমদানি মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এছাড়া গত ২২ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাদা মাছ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ওজনের অবঘোষিত ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে।
আমদানিকৃত এসব মাছের খরচ ও বাজারমূল্যের মধ্যে রয়েছে বড় ফারাক। শুল্ক ও পরিবহন খরচসহ আমদানিকৃত ইলিশের প্রতি কেজির মোট খরচ পড়ে মাত্র ৫১৪ টাকা। অথচ বাজারে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়। এর বিপরীতে একই আকৃতির প্রকৃত স্থানীয় বা দেশি ইলিশের বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৩,৩০০ থেকে ৩,৪০০ টাকা। কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন উৎস মন্ডল, বাবু, মাহাবুব, মোস্তাফিজুর ও পরিতোষ বিশ্বাস। তারা জানান, ক্রেতারা দামের পার্থক্যের কারণে বিদেশি ইলিশ কিনছেন এবং এতে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাফিজুর রহমান নামের একজন জানিয়েছেন, এসব মাছ ভারত ও মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি শুনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বাগআচড়ার কুদ্দুস ও বেনাপোলের জাফর নামের দুই ব্যক্তি এসব মাছ আমদানি করছেন। তবে মাছগুলো এলসির মাধ্যমে বৈধভাবেই আমদানি করা হয়েছে। দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশ আসায় দেশি ইলিশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
কিন্তু বাজারে এসব বিদেশি ইলিশ বিক্রির ক্ষেত্রে চলছে নানা প্রতারণা। আবদুল জব্বার নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল, কখনও চট্টগ্রামের ইলিশের নাম করে বিক্রি করা হচ্ছে এসব মাছ। অথচ ইলিশগুলো ভারতীয় ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী চড়া দামে এসব মাছ বিক্রি করায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং তিনি চান আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।
সাধারণ ক্রেতারাও যে এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তার প্রমাণ মিলেছে মিলন হোসেনের বক্তব্যে। তিনি জানান, দেশি ইলিশ মনে করেই একটি মাছ তিনি কিনেছিলেন এবং পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন যে মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত এই বাণিজ্য ও প্রক্রিয়াগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখছে।








