বিসিবির মেডিকেল বিভাগ আধুনিকায়নের বড় পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগকে আধুনিক ও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা এবং জরুরি ইউনিট চালুর পরিকল্পনা করেছে বোর্ড। ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসব কথা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার লক্ষে একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্রুতই একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। এছাড়া মেডিকেল বিভাগের কার্যপরিধি বাড়াতে এবং চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই পরিকল্পনাগুলোর কথা জানানো হয়।
বর্তমানে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের সার্বিক পরিস্থিতি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম জানান যে, বোর্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ২ জন। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিভাগে জরুরি কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এই সংকট উত্তরণে জনবল বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার অবকাঠামোগত উন্নতির বিষয়ে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম উল্লেখ করেন যে, মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে অবস্থিত একাডেমি ভবনে মেডিকেল বিভাগের জন্য প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা বরাদ্দ করা রয়েছে। এই নির্দিষ্ট জায়গাটিতে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলাপ-আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বরাদ্দকৃত জায়গায় ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিভাগ চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, "একটা পরিকল্পনাও করেছি, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এখানে আমাদের চিকিৎসক সংখ্যা কম। চিকিৎসক সংখ্যা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ইমার্জেন্সির কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা ইমার্জেন্সি মেডিকেল ইউনিট, তারপরে ওপিডি, পুনর্বাসন ইউনিট, অবজারভেশন তারপরে মানে ধাপে ধাপে।"
শুধু মিরপুরেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের অন্যান্য ভেন্যুগুলোতেও চিকিৎসাসেবা ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিসিবি। আঞ্চলিক পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম জানান, "আমরা আঞ্চলিকভাবেও চিন্তা করেছি। পাঁচটা ভেন্যু আছে আমাদের, ওখানে একজন করে ডাক্তার, ফিজিও ও ট্রেনার- এরকম নিয়োগ করা যায় কি না, সে নিয়েও চিন্তাভাবনা করছি।"
চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন কেবল ক্রিকেটের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিক স্পোর্টস মেডিসিন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, "স্পোর্টস মেডিসিন যদি ঠিকমতো গড়ে তুলি, তাহলে ফুটবল-ক্রিকেটসহ অন্যান্য যা যা খেলা আছে, সব খেলার মানুষজনই উপকৃত হবে।"
বিগত দিনে মেডিকেল বিভাগের ভূমিকা ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম আরও বলেন, "ক্রিকেট এগিয়েছে, ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য-ফিটনেস সবকিছু মেডিকেল বিভাগ দেখে। কিন্তু সেই তুলনায় অগ্রগতি খুবই খারাপ ছিল। তারা বলির পাঠা হিসেবে ছিল। মানে কোনো কিছু হলে, দোষটা তাদের ঘাড়ে পড়ে।" বর্তমান এই আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।








