বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, উড়োজাহাজ ক্রয় ও বাণিজ্য আলোচনা
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৭:৪৮· ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিভিন্ন ধরনের অশুল্ক বাধা এবং বিমান ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সরকারের বিগত ছয় মাসের কার্যক্রমে ইইউর চিহ্নিত করা মোট ৬১টি অশুল্ক বাধার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪৮টি দূর করা সম্ভব হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বোয়িং, এয়ারবাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার, বিএনপি সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার, জাতিসংঘ, ইউএন সিডিপি, ইকোসক, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনবিআর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে মাইকেল মিলার, সার্জিও গোর, ডোনাল্ড ট্রাম্প, তারেক রহমান, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেখ হাসিনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শামা ওবায়েদ, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং আহসান হাবিবের নাম সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়।
এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। এ সময় ইইউর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু অনুরোধ জানানো হয়। বৈঠকে মাইকেল মিলার বলেন, "আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি। আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যেকোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।"
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ সরকার ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির আর্থিক পরিধি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বর্তমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এই বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বার্তা যুক্ত ছিল। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উদ্ধৃতি এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচিত হয়, যেখানে বলা হয়েছিল, "বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।"
বৈঠকে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। ইইউ রাষ্ট্রদূতদের এই ঢাকা সফর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বৈঠক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








