অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বোয়িং থেকে বিমান কিনছে বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আইএমএফ-এর কাছে নতুন ঋণের চিঠির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এভিয়েশন খাতে ৭ থেকে ৮০টি বড় উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলকে (আইএমএফ) নতুন ঋণের জন্য গত জুনে চিঠি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ৩০শে এপ্রিল ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এই চুক্তির আওতায় থাকা ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই বহরে রয়েছে ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেল এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের এভিয়েশন খাতে ৭ থেকে ৮০টি বড় উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের এভিয়েশন খাতের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর হিস্যা মাত্র ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বাকি ৭৫ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে এক কোটি যাত্রী পরিবহন করছে এবং আগামী এক দশকে এই যাত্রীর সংখ্যা আড়াই কোটিতে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমানের বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনায় দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমান উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৯টি। এর পাশাপাশি ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন বিমানমন্ত্রী। তবে এই চুক্তির বাইরে ইউরোপীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
বেসরকারি খাতের চিত্রও বেশ সক্রিয়। ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এসব অগ্রগতির বিপরীতে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার নতুন করে ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলকে (আইএমএফ) গত জুনেই চিঠি দিয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছেন সার্জিও গর, ডোনাল্ড ট্রাম্প, তারেক রহমান, হুমায়ুন কবির, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইভো কার্জনার, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও কাজী ওয়াহিদুল আলম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বোয়িং, যুক্তরাষ্ট্র সরকার, বাংলাদেশ সরকার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ), ইউএস–বাংলা এবং এয়ারবাস। ২০২৫-২০২৬ সালের এই সময়ে দেশের এভিয়েশন ও অর্থনৈতিক খাতের দৃশ্যপটে এই সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।








