ফরিদপুরে শিকারির হাত থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘুঘু পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত
ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাটে ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শিকারির হাত থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘুঘু পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীর হস্তক্ষেপে পাখিগুলো মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে আটক করা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘুঘু পাখি এক শিকারির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বন্যপ্রাণী ও পাখি নিধন রোধে সচেতন মহলের তৎপরতার কারণে পাখিগুলো শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জীবন ফিরে পায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাসুদ নামের এক পাখি শিকারি প্রায় ৬০টি ঘুঘু পাখি বিক্রির উদ্দেশ্যে মমিন খার হাটে নিয়ে এসেছিলেন। ওই সময় তিনি প্রকাশ্যেই প্রতি জোড়া ঘুঘু পাখি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি পাখি বিক্রিও করে ফেলেছিলেন। হাটে পাখি বিক্রির বিষয়টি উপস্থিত লোকজনের নজরে আসে।
এ সময় স্থানীয় সংবাদকর্মী মেহেদী সোহেল সাহসিকতার সঙ্গে বিষয়টি প্রতিহত করার উদ্যোগ নেন। তার সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে এবং পরবর্তীতে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েন অভিযুক্ত শিকারি মাসুদ। আইনগত ব্যবস্থার আশঙ্কার মুখে পড়ে তিনি তার কাছে থাকা বাকি ঘুঘু পাখিগুলো মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
উদ্ধার হওয়া এই ঘুঘু পাখিগুলোর অবমুক্তকরণের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সংবাদকর্মী মেহেদী সোহেলের এই ভূমিকা এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতন নাগরিকরা এ ধরনের শিকারিদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে খবর দিলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া আরও উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণী সুরক্ষার পাশাপাশি জলজ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ও পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানান।








