ফরিদপুরে খিচুড়ি রান্নার সময় ৬ রিকশাচালক আটক
ফরিদপুর সদরে শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটি গঠন উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার সময় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শোক দিবস পালনের সন্দেহে ছয় রিকশাচালককে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধূলদী রেলগেট সংলগ্ন বাজার এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এবং চ্যানেল ২৪ সূত্রে জানা যায়, সেখানে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের একটি নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হচ্ছিল। ওই আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে যখন রান্নার কাজ চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হয় যে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কোনো শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি হিসেবে এই খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জন রিকশাচালককে আটক করে। পরে তাঁদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানায়।
কোতোয়ালী থানায় আটককৃত এই ছয় রিকশাচালকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মজিদ শেখ, হারুন শেখ, আনোয়ার মোল্লা, মনোয়ার মোল্লা, ইউসুফ শেখ এবং রহিম শেখ। সাধারণ শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহকারী এসব মানুষকে আটকের পর থেকেই থানায় আটকে রাখা হয়।
এই আটকের ঘটনার বিষয়ে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ছিদ্দিকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের সংগঠন কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। আমাদের নিজেদের একাতাবদ্ধ হওয়া ও দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য গঠিত সংগঠন। কিন্তু পুলিশ আমাদের ছয়জন রিকশাচালককে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে। পুলিশ বলেছে তারা ছেড়ে দেবে। কিন্তু এখনো আটক শ্রমিকদের ছাড়া হয়নি।"
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসার লক্ষণ দেখা যায়। ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, যে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শ্রমিকদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আটক শ্রমিকদের নির্দোষিতা সম্পর্কে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আরও স্পষ্ট করে বলেন, "যে অভিযোগে ওই শ্রমিকদের আটক করে থানায় আনা হয়েছিল, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাঁরা সবাই নিরীহ রিকশাচালক। তাঁদের আটকে রাখার কোনো মানে নেই। তাঁদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে দেড় বছর আগের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট এবং বিগত ২৯ ঘণ্টার বিভিন্ন পুলিশি তত্পরতার তথ্যও সামনে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আটকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের সত্যতা না মেলায় তাঁদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।








