প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিভ্রমণ
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রবেশের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এই ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথম দিনেই সাত শিক্ষার্থী এই সুযোগ গ্রহণ করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পরিবেশ রক্ষার এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। এই উদ্যোগটি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। প্লাস্টিকদূষণ রোধ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় এই ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং এই অভিনব সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়। সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণার পর গত সোমবার এবং আজ মঙ্গলবার এই কার্যক্রমের বাস্তবিক প্রয়োগ দেখা গেছে। পরীক্ষামূলক এই চালুর প্রথম দিনেই সাতজন শিক্ষার্থী এই সুযোগ নিয়েছে। ওই দিন তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগ্রহের সঙ্গেই এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে এবং বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছে।
পরিবেশ সুরক্ষার এই উদ্যোগের পেছনের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, হ্রদ ও সাগরের মতো জলজ পরিবেশে গিয়ে মেশে। এই বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক দূষণ জলজ জীবন ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'এই পরিবেশটা সবার এবং এই পরিবেশে আমরা বসবাস করি। বসবাসের জন্য এই পৃথিবী ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।' তার এই বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টি জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগের সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। এই কার্যক্রমে শাহাদাত হোসেন, গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, মো. শরীফ উদ্দিন, পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, জমির উদ্দিন ও মো. মোজাহিদুর রহমানের মতো ব্যক্তিবর্গ এবং প্রথম আলো ও জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-র প্রসঙ্গও এই সামগ্রিক পরিবেশগত আলোচনায় রয়েছে।
সার্বিকভাবে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রবেশের এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক সচেতনতা তৈরিতে একটি বড় পদক্ষেপ। প্রথম দিনে সাত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম প্লাস্টিক সংগ্রহ প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্ম এই কার্যক্রমে সাড়া দিচ্ছে। আগামী দিনে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি আরও বড় পরিসরে বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।








