প্রকাশিত হলো ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬
১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নগর ভবন অডিটোরিয়ামে 'ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬' প্রকাশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের এই নীতিমালায় হকারদের জন্য ফি নির্ধারণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা নগরের নগর ভবন অডিটোরিয়ামে 'ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬' প্রকাশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এই নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে, যা ঢাকা শহরের হকারদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকা শহর ও নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চায় না ডিএসসিসি। তবে সারাদেশের ভাসমান মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।
নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, হকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর। নিবন্ধনের পর বৈধ হকারদের বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক করবে।
নতুন এই নীতিমালায় হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং মাসিক স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি তিন হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত এই নীতিমালা অনুযায়ী ফি দিয়ে হকারদের নিয়মিত নিবন্ধন ও নবায়ন করতে হবে।
স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষ সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্থান বরাদ্দের ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া ফুটপাতে পথচারী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার জায়গা হিসেবে ন্যূনতম ১.৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা খালি রাখতে হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আরও বলেন, হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার শৃঙ্খলা মেনে চললেই এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব। ডিএনসিসি, ডিএমপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান যে, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব সড়কে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে নাগরিকদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য হকারদের সুবিধার জন্য হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালু করা হবে।








