পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বিনত বিবির মসজিদের ইতিহাস
১৪৫৭ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন সুলতানি আমলে পুরান ঢাকার নারিন্দায় নির্মিত হয় ঐতিহাসিক বিনত বিবির মসজিদ। মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদটির আয়তন ও অবকাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপত্যগুলোর মধ্যে নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ১৪৫৭ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত হয়েছিল। সুদূর অতীত থেকেই এই অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই প্রাচীন স্থাপনাটি।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি। সে সময়কার সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই মসজিদটির গোড়াপত্তন করা হয়েছিল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে তৎকালীন সময়ে নাসির উদ-দীন মাহমুদ শাহ, মারহামাত এবং আরাকান আলী নামের ব্যক্তিবর্গের প্রসঙ্গও যুক্ত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার সময় আদি মসজিদটি মূলত বর্গাকার আকৃতির ছিল এবং এর ওপর একটিমাত্র গম্বুজ নির্মিত হয়েছিল। সে সময়কার ঐতিহাসিক দলিল ও শিলালিপি অনুযায়ী, ৮৬১ হিজরিতে এই মসজিদের প্রথম সংস্করণ বা সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই সংস্করণটি মসজিদটির টিকে থাকা এবং এর স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রথম সংস্করণের পর পরবর্তীতে বাংলা ১৩৩৭ সালে মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয়। এই দ্বিতীয় সংস্করণের সময়ই মূলত মসজিদটিতে দ্বিতীয় গম্বুজটি যুক্ত করা হয়, যা এর কাঠامোগত রূপকে কিছুটা পরিবর্তন করে। এছাড়া, ৮৬৬ হিজরিতে এই চত্বরে একটি মাজারও স্থাপন করা হয়েছিল, যা এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থাপত্যটির আয়তন এবং পরিমাপের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক মসজিদটির আয়তন হলো ৩.৬৩ বর্গমিটার। এছাড়া, মসজিদটির প্রতিটি দেয়াল ৩.৬৩ মিটার প্রশস্ত করে তৈরি করা হয়েছিল, যা সেই আমলের রাজমিস্ত্রি ও কারিগরদের নিখুঁত প্রকৌশল বিদ্যার পরিচয় বহন করে।
বর্তমানে নারিন্দা এলাকার এই প্রাচীন মসজিদটি কেবল একটি ইবাদতখানার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরান ঢাকার দীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমির এক জীবন্ত দলিল। এর আশেপাশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকা থাকলেও, এই প্রাচীন স্থাপনাটি তার স্বকীয়তা বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে। সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলী এবং এর ধারাবাহিক সংস্কারের ইতিহাস গবেষক ও সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।








