পুঁজিবাজার সংস্কারে বড় ঘোষণা বিএসইসি চেয়ারম্যানের
৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকায় ডিবিএ আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনায় পুঁজিবাজার সংস্কারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি ডিরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন অনুমোদন, আইপিও রুল ও হাইব্রিড লিস্টিং চালুর কথা জানান।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:১৬· ১ মিনিট পড়া

৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকায় ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ডিবিএর আয়োজনে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুঁজিবাজার সংস্কারের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএল, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিসিবিএল, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ডিবিএ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান ডিরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন সম্পর্কে বলেন, 'ডিরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন আগামীকাল (মঙ্গলবার) কমিশন মিটিংয়ে আমরা অ্যাপ্রুভ করবো। পরশু জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়ে দেবো।' এই ব্যবস্থার সুবিধা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান যে, এর মাধ্যমে একটি কোম্পানিকে আইপিও প্রক্রিয়ায় আর যেতে হবে না এবং কোম্পানি তার নির্দিষ্ট শেয়ার অফলোড করে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। খুব দ্রুত, দুই-তিন মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে অনেক ভালো ভালো কোম্পানি ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের আওতায় আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি কোম্পানিকে বাজারে দেখতে পাওয়া যাবে যারা এরই মধ্যে আসার ঘোষণা দিয়েছে এবং কয়েকটি এর মধ্যেই চলে আসবে।
আইপিও এবং লিস্টিং ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন যে, আইপিও রুল আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড লিস্টিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন যে, একটি কোম্পানি চাইলে একই সঙ্গে আইপিও এবং ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সমন্বয় করতে পারবে। এক সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ বোর্ড থেকে হাইব্রিড ব্যবস্থার বিষয়টি আসছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া সিকিউরিটিজ আইনের ২০এ ধারার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই ধারায় জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে স্টক মার্কেটে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।
বাজারের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মাসুদ খান জানান যে, বাংলাদেশে সিসিবিএল নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হলেও এতদিন কার্যকরভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। পাশাপাশি, বছর শেষ নাগাদ টি+১ ব্যবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা থাকবে বলেও তিনি জানান। বাজারের সুশাসন ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন যে, কমিশন প্রতিদিন বাজার পর্যবেক্ষণ করে, কিন্তু কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্রোকারেজ হাউসকে বিএসইসি থেকে ফোন দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না।
লেনদেনের স্বচ্ছতা ও অপরাধের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বড় অর্ডার দেওয়া নিজে কোনো বেআইনি কাজ নয়। তবে তিনি পরিষ্কার করেন যে, ধারাবাহিকভাবে বড় ক্রয় ও বিক্রয় আদেশ দিয়ে সিরিজ ট্রেডিং করা একটি অপরাধ। ডিবিএর এই উন্মুক্ত আলোচনায় পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের এসব সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও মন্তব্য বাজারের অংশীজনদের মধ্যে আশাবাদ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডিরেক্ট লিস্টিং ও হাইব্রিড ব্যবস্থার মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির প্রবেশ সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








