পিপিপি পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে দারোয়ানী ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল
আজ বুধবার ঢাকায় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বন্ধ থাকা নীলফামারীর দারোয়ানী ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা পিপিপি পদ্ধতিতে হস্তান্তরের চূড়ান্ত চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার, এলএনজি ও পাম অলিন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আজ বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)-এর বৈঠকে দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বন্ধ থাকা নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল এবং মাগুরা টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরের চূড়ান্ত চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ গেজেট আকারে জারি হওয়ায় এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আইনি বাধা দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিচালনা করবে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। ৩০ বছর মেয়াদি আলাদা চুক্তির আওতায় এই মিল পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। এছাড়া প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা চুক্তি ফি, ৭৫ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং এর মাধ্যমে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদ বিন আবদুস সালাম বলেন, "আমরা নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ নিয়ে আসব। সেখানে পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে এলাকার উন্নয়ন করব। সরকারের সিদ্ধান্তের পর আমরা দ্রুত কাজ শুরু করব।" উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)-এর অধীন ২৫টি কারখানার মধ্যে ১৬টি মিলকে পিপিপি পদ্ধতিতে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর আগে ৪টি মিল বেসরকারি অংশীদারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৬ একর জমিতে স্থাপিত মাগুরা টেক্সটাইল মিল পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে চরকা টেক্সটাইল লিমিটেড। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সাইনিং মানি, বার্ষিক ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কন্টাক্ট ফি, ৫০ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আজকের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে শুধু টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরই নয়, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্যে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট খাতের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) ও জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের মাধ্যমে কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে, যার প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। এছাড়া এসএবিআইসি অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৪৩০ মার্কিন ডলার প্রতি টন মূল্যে ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার জন্য ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শবনাম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ২ কোটি লিটার বা ২০ হাজার টন পরিশোধিত পাম অলিন ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি লিটার পাম অলিনের দাম ধরা হয়েছে ১৮৪ টাকা এবং মোট পাম অলিন ক্রয়ে ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই বহুমুখী অনুমোদনের ফলে দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।








