পারফেকশনিজম কোনো মানসিক রোগ নয়: জানুন এর তিন ধরন
পারফেকশনিজম কোনো মানসিক রোগ নয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পারফেকশনিস্ট মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পারফেকশনিজম বা নিখুঁত হওয়ার তাড়না কোনো মানসিক রোগ নয়। এটি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক একটি প্রবণতা, যা নিয়ে মনোবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের জগতে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ হয়ে থাকে। আধুনিক জীবনে এই প্রবণতা মানুষের ওপর নানাভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ‘সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন’ জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিজেকে পারফেকশনিস্ট বলে মনে করা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই প্রবণতাটি মানুষের মধ্যে আরও বেশি করে দানা বাঁধছে।
থ্রাইভওয়ার্কস এবং এমিলি সিমোনিয়ান এর সাথে সম্পর্কিত নানা মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তাদের আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে পারফেকশনিজম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যা মানুষের মানসিক জগতকে বুঝতে সাহায্য করে।
মনোবিজ্ঞানীরা সাধারণত পারফেকশনিজমকে প্রধানত তিন ধরনের প্রবণতায় ভাগ করেন। এই তিন ধরনের প্রবণতার মাধ্যমে মানুষের নিখুঁত হওয়ার মানসিকতার ভিন্ন ভিন্ন দিকগুলো প্রকাশ পায়।
প্রথম ধরনটি হলো সেলফ-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিজম। এই ধারায় ব্যক্তি নিজেই নিজের ওপর অতিরিক্ত ও নিখুঁত প্রত্যাশা চাপিয়ে দেন এবং নিজের কাজের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি দেখতে চান না।
দ্বিতীয় ধরনটি হলো আদার-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিজম। এই প্রবণতায় ব্যক্তি নিজের পরিবর্তে অন্য মানুষের কাজের ক্ষেত্রে নিখুঁত মান বা আদর্শ আশা করেন এবং চারপাশের মানুষের কাছেও ত্রুটিহীনতা প্রত্যাশা করেন।
তৃতীয় এবং শেষ ধরনটি হলো সোশ্যালি-প্রেসক্রাইবড পারফেকশনিজম। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি মনে করেন যে সমাজ বা চারপাশের মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর নিখুঁত হওয়ার একধরনের প্রবল চাপ রয়েছে, যা তাঁকে মানতেই হয়।








