পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্ট্রাল ভর্তি ক্যালেন্ডার চালুর উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, একাধিক আবেদন ও যাতায়াত বিড়ম্বনা কমাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় উচ্চশিক্ষার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, একাধিক আবেদন ও যাতায়াত বিড়ম্বনা কমাতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালে ঢাক It-এ এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি নেওয়া হয়, যার মূল লক্ষ্য ভর্তি প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরীক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় কষ্ট লাঘব করা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এ উচ্চশিক্ষার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উচ্চশিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও প্রাচীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), তাদের নিজস্ব আইন ও নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে আসছে। এসব ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা বজায় রেখেই সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের কথা ভাবা হচ্ছে।
এর আগে গুচ্ছ বা জিএসটি (GST) ভর্তি পদ্ধতি চালু হলেও পরবর্তীতে তা নানা সংকটের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে এই ভর্তি ব্যবস্থায় এক ধরণের ভাঙন দেখা দেয়।
গুচ্ছ পদ্ধতি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'গুচ্ছে থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষার্থী পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছে।' তার এই মন্তব্যের মাধ্যমেই গুচ্ছ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে।
উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের উচ্চ মাধ্যমিক বা একাদশ শ্রেণির (ক্লাশ একাদশ) ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পূর্বে তিন ধাপে অনলাইনে আবেদন করার যে জটিল প্রক্রিয়া ছিল, তা সংস্কার করে এখন থেকে এক ধাপে অনলাইন আবেদন নেওয়ার প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত ভাবনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই আমূল পরিবর্তনগুলো আসছে। কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার এবং একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।








