পাঁচ মাসে ২২৫৫ জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করেছে বিটিআরসি
চলتی বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২২৫৫টি জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ব্লক করার সংখ্যা ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ ও দেশের ডিজিটাল মাধ্যম সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে গ্যাম্বলিং ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মোট ২২৫৫টি জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করা হয়েছে। দেশের সাইবার জগত থেকে জুয়ার বিস্তার রোধে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে বিটিআরসির মাধ্যমে ব্লক করা জুয়ার সাইট ও লিংকের সংখ্যা ছিল ১৭৬৮। সেই হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ব্লক করা জুয়ার সাইট ও লিংকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জুয়ার সাইট ও লিংক ব্লক করার হার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান এই প্রযুক্তিগত কার্যক্রম এবং এর আইনি এখতিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী এবং ঢাকা পোস্টের সাথে আলাপে অংশ নেওয়া অধ্যাপক ওমর ফারুক।
বিটিআরসির কাজের পরিধি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট করে মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, "আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নই। ফলে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত করা বা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমাদের দায়িত্ব হলো, যেসব জুয়ার ওয়েবসাইট, ডোমেইন বা লিংক শনাক্ত হচ্ছে, সেগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করে দেওয়া। আমরা সেই কাজটিই করছি এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
তিনি আরও জানান যে, জুয়া চক্রগুলো অনেক সময় নানা কৌশলে বাঁচার চেষ্টা করে থাকে। একটি সাইট বন্ধ করার পর সেটি যদি নতুন কোনো ডোমেইন বা লিংকের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়, তবে সেটিও শনাক্ত করে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সাইট বন্ধ করার পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, "একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পৃথক আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।"
সার্বিকভাবে, বিটিআরসি দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিস্তার রোধে প্রযুক্তিগতভাবে ডোমেইন ও লিংক ব্লক করার কাজ জোরদার করেছে। জনগণের সুরক্ষায় এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এই ধরনের তদারকি ও ব্লক করার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।








