ঢাকায় 'স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ' গোলটেবিল বৈঠক
ঢাকায় টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) উদ্যোগে 'স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাব্লিং ইন্টারনেট ফর অল' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর এই আয়োজনে দেশের টেলিকম খাতের বর্তমান অবস্থা, স্পেকট্রামের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকায় টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)-এর উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাব্লিং ইন্টারনেট ফর অল' শীর্ষক এই আয়োজনে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) পাশাপাশি রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন এবং এফআইসিসিআই-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে দেশের টেলিকম খাতের স্পেকট্রাম সংকট ও ভবিষ্যৎ চাহিদার চিত্র তুলে ধরা হয়। বিশ্বমান অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য ২ থেকে ৬ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে দেশে ৪৬০ থেকে ৪৬২ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম প্রয়োজন হবে। বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে মোবাইল নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯৩তম অবস্থানে ছিল। এছাড়া বর্তমানে ভয়েস কলের মিনিট ২৫ শতাংশ কমেছে এবং একজন গ্রাহক গড়ে মাসে আট গিগাবাইটের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না।
বৈঠকে বক্তারা স্পেকট্রামের দাম ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। জিয়াদ সাতারা বলেন, 'স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্য শুধু সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত নয়।' ইয়োহান বুসে উল্লেখ করেন যে, 'গত ১০ বছরে দেশের টেলিকম খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়েনি।' অন্যদিকে ইয়াসির আজমান বলেন, 'স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টি আরও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।' এই বিষয়ে রেহান আসিফ আসাদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, 'এ বিষয়ে অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।'
গ্রাহকসেবা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, 'গ্রাহকসেবা, অপারেটরদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে একটি ‘সুইট স্পট’ খুঁজে বের করতে হবে।' গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাইমুর রহমান, তানভীর মোহাম্মদ, সাহেদ আলম, টিআইএম নূরুল কবীর, লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার, এমডি মুনির হাসান, এস এম মাসুদুজ্জামান রবিন এবং ফারুক হোসাইন। দেশের ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে খাতটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে তাদের এই আলোচনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
আগামী দিনগুলোতে টেলিকম খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী বছর আরও ৪০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের বড় পরিসরের স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও ত্বরান্বিত হবে।








