পটুয়াখালীর দুমকীতে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে পীরতলা খাল
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় দখল ও দূষণের কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে পীরতলা খালের পানিপ্রবাহ। ১৯৮১ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদ ও পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পীরতলা খালটি বর্তমানে অবৈধ দখল ও মারাত্মক দূষণের শিকারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় জনজীবন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংবাদমাধ্যম সমকাল-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পীরতলা খালটি খনন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক এই খালটি খনন করা হয়েছিল ১৯৮১ সালের ২৭ এপ্রিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সংরক্ষণের অভাবে খালটি আজ চরম দুর্দশায় পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের প্রায় দেড় কিলোমিটারে সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। দখলদারদের আগ্রাসনে খালের বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছে নানা স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে ২০টির বেশি অবৈধ দোকানপাট। এমনকি খালের জায়গায় একটি চারতলা ভবন নির্মাণের ঘটনাও ঘটেছে।
পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, খালের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যেই ৫ থেকে ৭টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব অবৈধ দখল ও ময়লার ভাগাড়ের কারণে খালের পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে আটকে গেছে। খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তবে খালের জায়গা দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শামিম আজাদ দাবি করেছেন, 'ক্রয়সূত্রে আমি এ জমির মালিক এবং জমি ক্রয়ের পর নকশা অনুযায়ী মেপে দেওয়া হয়। তারপর আমি ঘর তুলে দীর্ঘ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। আমি খালের কোনো জমি দখল করিনি।'
আরেক অভিযুক্ত মো. ফোরকান মৃধা জানিয়েছেন, 'একবার জরিপ হয়েছিল এবং খালের নকশা অনুযায়ী মাপের পর আমরা যার যার জায়গা বুঝে নিই। আমি খালের কোনো জায়গা দখল করিনি। তারপরও খালের মধ্যে ঢুকে থাকলে আমি তা ছেড়ে দেব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।'
এই পরিস্থিতি নিয়ে দুমকী উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, পীরতলা খালটির অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর খালটি পুনর্খনন করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খালটি তার পুরোনো প্রবাহ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।








