নারী নির্যাতন ও কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে নারীর শিক্ষায় অগ্রগতি সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও আইনি সুরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে নারীর শিক্ষাগত অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, আইনি সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের একটি মিশ্র চিত্র ফুটে ওঠে, যেখানে একদিকে রয়েছে অর্জনের আলো, অন্যদিকে রয়েছে সহিংসতার গভীর অন্ধকার।
শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে নারীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের চিত্র বেশ আশাবাদী। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিকে প্রায় ৬২ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পরবর্তীতে মাধ্যমিকে এই হার কিছুটা কমে ৫৫ শতাংশে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে প্রায় ৫২ শতাংশে দাঁড়ায়। উচ্চশিক্ষায়ও নারীর হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে উচ্চশিক্ষায় নারীর হার বাড়লেও কর্মসংস্থানের বাজারে এর ইতিবাচক প্রতিফলন সম্পূর্ণভাবে দেখা যাচ্ছে না। পুরুষ গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় নারী গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারের হার বেশি লক্ষ্য করা যায়। এর পাশাপাশি, কর্মক্ষম নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৬ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ হয়েছে।
শ্রমবাজারে নারীর এই অংশগ্রহণ বাড়লেও এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নারীর একটি বড় অংশের কর্মসংস্থান মূলত অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খাতে হয়ে থাকে। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এখন কমে যাচ্ছে, যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এর বাইরেও কভিডকালে বৃদ্ধি পাওয়া বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধির ধারা এখনও সমাজে অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে, প্রায় ৭৬ শতাংশ বা প্রতি চারজন নারীর তিনজন তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় অন্তরঙ্গ সঙ্গী বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক নারী গত এক বছরেই এই নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন।
পরিসংখ্যান আরও জানাচ্ছে যে, প্রায় ৫৪ শতাংশ নারী স্বামী বা জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। এ ধরনের চরম পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পরও প্রায় ৬২ শতাংশ নারী লজ্জা বা সামাজিক চাপের কারণে বিষয়টি কাউকে জানান না এবং আইনি সহায়তার পথে যান না। ফলে অপরাধীরা প্রায়শই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় সাম্প্রতিক তথ্যে। সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের বিভিন্ন সময়ে ১২ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয় হাজারের অধিক ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা। এই প্রেক্ষাপটে নারীর আইনি সুরক্ষা জোরদার করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।








