এএসএসইটি প্রকল্পে নারীর অংশগ্রহণ ও মেয়াদ বাড়ল
এএসএসইটি প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে নেওয়া ‘অ্যাক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি-অ্যাসেট)’ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুলাই প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করেছে। এর ফলে প্রকল্পটির কার্যক্রম এখন ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণে নারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সময়কালে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে নারী প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন, যা মোট প্রশিক্ষণার্থীর ৫৭.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৮৬৬ জন। সংখ্যার হিসাবে দেখা যায়, পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীর চেয়ে নারী প্রশিক্ষণার্থী ৩৫ হাজার ৬০৪ জন বেশি অংশগ্রহণ করেছেন।
সাধারণ নারী ও যুবকদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন কোর্সে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪ হাজার ৮০ জন তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে ৭ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও এই কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন কোর্সের বিন্যাসেও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত কোর্সে ২১ হাজার ৭০২ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, ইবিটিতে (ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেসড ট্রেনিং বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন। মাঠপর্যায়ে এসব কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
প্রকল্পের এই সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মীর জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, 'বর্ধিত মেয়াদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হবে।'
প্রশিক্ষণের গুণগত মান বজায় রাখা এবং তা থেকে বাস্তব সুফল পাওয়ার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মীর জাহিদ হাসান আরও বলেন, 'মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের এই কার্যক্রম সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।'
সব মিলিয়ে, বিশ্বব্যাংকের সম্মতিতে এএসএসইটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।








