নারিকেল গাছ কেন 'জীবনের গাছ' বলা হয়
বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে নারিকেল গাছ 'ট্রি অব লাইফ' বা 'জীবনের গাছ' হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও নারিকেলের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এই নাম দিয়েছে। গাছটির প্রতিটি অংশই মানুষের নানা কাজে লাগে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নারিকেল গাছকে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে 'ট্রি অব লাইফ' বা 'জীবনের গাছ' বলা হয়। মানুষের জীবনে এই গাছটির বহুমুখী উপযোগিতা রয়েছে। এর ফলের পানি থেকে শুরু করে গাছের কাণ্ড পর্যন্ত সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও নারিকেলের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এই নামটি উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে উদ্ভিদটির গুরুত্ব অপরিসীম।
এই গাছের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর ফল। কাঁচা নারিকেলের পানি তৃষ্ণা মেটায় এবং এর নরম শাঁস খাবার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে, পরিণত নারিকেলের শাঁস থেকে বিভিন্ন উপাদেয় খাদ্য উপাদান ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব হয়।
পরিণত নারিকেলের শাঁস প্রক্রিয়াজাত করে নারিকেল দুধ ও তেল তৈরি করা হয়। এছাড়া পরিণত শাঁস শুকিয়ে কপরা তৈরি করা হয়, যা বাণিজ্যিকভাবেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের পাশাপাশি নারিকেলের বাইরের অংশ বা ছোবড়াও সমানভাবে উপযোগী। নারিকেলের ছোবড়া থেকে বিশেষ আঁশ পাওয়া যায়, যা দিয়ে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করা হয়।
এই আঁশ ব্যবহার করে দড়ি, মাদুর, ব্রাশ ইত্যাদি তৈরি করা হয়। ফলে ফল পাওয়ার পর এর অবশিষ্টাংশও বর্জ্য হিসেবে নষ্ট হয় না, বরং কুটির শিল্পে কাজে লাগে।
শুধু ফল বা ছোবড়ায় সীমাবদ্ধ নয় এই গাছের উপযোগিতা। পুরনো বা উৎপাদনক্ষমতা হারানো গাছের কাণ্ড দিয়ে ঘরবাড়ি, আসবাব এবং নৌকা তৈরি করা সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে দারুণ ভূমিকা রাখে।








