নতুন সরকারের ছয় মাসে অর্থনীতি ও সিপিডির মূল্যায়ন
নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যকাল নিয়ে একটি মিডিয়া ডায়ালগ আয়োজন করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অনুষ্ঠানে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক, রাজস্ব ঘাটতি, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া ডায়ালগ আয়োজন করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান এবং তৌফিকুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যে ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। এই বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, 'সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যে ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না।' তিনি আরও বলেন, 'নতুন সরকারের কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা।'
চলতি অর্থবছরের অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে সিপিডি জানায়, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এনবিআর, বিডা, বেজা ও পিপিপিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সম্ভাব্য ঘাটতির চিত্র উঠে আসে।
শিল্প খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সময়ে দেশের তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে ৬১ হাজার ৮৮১ জন মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, যা দেশের শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তবে অর্থনীতির কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সামগ্রिक এই পর্যালোচনায় দেখা যায়, নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও রিজার্ভ বাড়ার মতো ইতিবাচক অর্জন রয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি এবং শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোও অর্থনীতির সামনে বিদ্যমান রয়েছে।








