নতুন সরকারের ছয় মাসে অপরাধের চিত্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে নির্দিষ্ট সাত শ্রেণিতে মামলার সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত—এই ছয় মাসের অপরাধের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম আলো এবং পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে মোট ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত একই সাত শ্রেণিতে মামলা হয়েছিল ২১ হাজার ২২৮টি। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে মামলার সংখ্যা ৫২৮টি বা প্রায় আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ে সারা দেশে খুনের ঘটনায় ১ হাজার ৭৮৯টি মামলা হয়েছে। অথচ এর আগের ছয় মাসে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছিল ১ হাজার ৭৮০টি। অর্থাৎ খুনের মামলা সামান্য বেড়েছে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার চিত্রও তুলে ধরেছে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মোট ১১ হাজার ১৯৬৫টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে এই শ্রেণিতে মামলার সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৯০টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার এই বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট মহ Isর নজর কেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও এই তালিকায় রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই সময়কালে সারা দেশে মোট ৩১৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার সংখ্যা ছিল ২৭৫টি। এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে সব অপরাধের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা যে বেড়েছে, তা নয়। কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণিতে মামলার সংখ্যা হ্রাসও পেয়েছে। বিশেষ করে ডাকাতি ও দস্যুতা, ছিনতাই, অপহরণ এবং চুরির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। এই চার শ্রেণিতে গত ছয় মাসে মোট ৮ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে এই চার শ্রেণিতে মামলার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৮৩টি।
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও মন্তব্য করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এ কথাও স্বীকার করেছেন যে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও এই বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও এই প্রসঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তারেক রহমান, খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন। তবে মামলা গ্রহণের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে অপরাধ দমনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো ঘটনায় মামলা না নিলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। সামগ্রिक এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।








