ধামরাইয়ের রূপনগর বেদে পল্লী পরিদর্শনে ঢাকা জেলা প্রশাসক
প্রায় তিন দশক পর ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগরের বেদে পল্লী পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এ সময় তিনি বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার বিতরণ করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

প্রায় তিন দশক পর ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগরের বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ২০ আগস্ট এই পরিদর্শনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দীর্ঘ বছর পর প্রশাসনের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার এমন উপস্থিতিতে বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
পরিদর্শনকালে বেদে পল্লীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই পল্লীর মোট ৬৩টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জন বেদে পরিবারের সদস্যকে ঢেউটিন এবং মাথাপিছু ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সহায়তার এই কার্যক্রমে শুধু খাদ্য ও অর্থ সহায়তা নয়, বরং পোশাক ও শিশুদের বিনোদনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই পল্লীর ১১৩ জনের মাঝে শাড়ি ও থ্রিপিস বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পল্লীর ২০০ শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের খেলনা।
পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কার্যক্রমে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান স্থায়ীভাবে উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, উপজেলা পরিষদ থেকে রূপনগরের এই বেদে পল্লীর জন্য ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসন ও স্থায়ী ঠিকানার জন্য খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
বেদে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এই সফরে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পল্লীর নারীদের মাঝে ২৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।








