দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, ব্যাহত শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ
এলএনজি সংকট ও টার্মিনাল সমস্যার কারণে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও ভালুকাসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানা এবং আবাসিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সংকট নিয়ে জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হককে তলব করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

এলএনজি সরবরাহ সংকট ও টার্মিনাল সমস্যার কারণে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হককে তলব করেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গত বৃহস্পতিবার দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট। ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট। এই সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে।
এলএনজি খাতের তথ্য অনুযায়ী, সামিট-এর টার্মিনাল সচল থাকলেও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি এলএনজি কার্গোর অভাব এবং পূর্ববর্তী অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির কারণে বন্ধ রয়েছে। এই দুই কারণে সামগ্রিক এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তিতাস গ্যাসের সরবরাহ লাইনেও টান পড়েছে। তিতাসের সরবরাহ লাইনে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও এলএনজি সংকট শুরুর পর তা কমে ১০০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।
বিভিন্ন খাতের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে, সার কারখানায় গেছে ২১ কোটি ঘনফুট, এবং সিএনজিতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে, শিল্প ও আবাসিক খাত মিলিয়ে পেয়েছে মাত্র প্রায় ১০২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অথচ গত মাসের একই সময়ে এই দুই খাতে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট, যা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে চট্টগ্রামের ইস্পাত কারখানাগুলোতে, যেখানে উৎপাদন গড়ে ২৫ শতাংশ কমে গেছে। জিপিএইচ ইস্পাত, সীমা স্পিনিং মিলসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় শাহনেওয়াজ পারভেজ, ড. ইজাজ হোসেন, মো. আমজাদ হোসাইন, তাপস কুমার তালুকদার, ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল, আব্দুল হাকিম মাখন, রফিকুল ইসলাম ও আনছার উদ্দিনের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে গ্যাসনির্ভর কারখানা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০। শিল্প পুলিশ-২ ও শিল্প পুলিশ-৫ এর আওতাধীন এই এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় জেনারেটর বা অন্য উপায়ে উৎপাদন চালু রাখা বড় কারখানাগুলোতেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে পিএন কম্পোজিট, গোমতী টেক্সটাইল, আশিয়া ফ্যাশন, আনলিমা টেক্সটাইল ও টয়ো স্পিনিং মিলসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মারাত্মক বিপাকে পড়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভালুকার ২৯৩টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। এই এলাকার ২০টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি ও শিল্প খাতের এই সংকটের প্রেক্ষাপটে অর্থ বিভাগ ও জ্বালানি বিভাগ যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।








