তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার জরুরি
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রজ্ঞা ও আত্মার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে বক্তারা তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।
প্রকাশ: · আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২৯· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ, অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে (এনসিডি) হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এই পরিসংখ্যান তামাকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এর ভয়াবহতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তামাকের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ড. মাহবুব উল্লাহ, ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, জহিরুল আলম, রিয়াজ আহমদ, মর্তুজা হায়দার লিটন, এবিএম জুবায়ের, নাদিরা কিরণ এবং হাসান শাহরিয়ারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি, চ্যানেল ২৪ এবং ঢাকা ট্রিবিউনের মতো বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তা এসডিজি অর্জনের পথকে সুগম করবে।”
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের কষ্ট আমাদের চোখের সামনে তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। তামাকের ছোবল থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জহিরুল আলম বলেন, “জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।” একই সুরে রিয়াজ আহমদ বলেন, “এসডিজি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরও বেশি খবর প্রকাশ করতে হবে।”
সবশেষে, তামাকের কর বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রণয়ন এবং এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।








