ঢাবির সান্ধ্য আইন শিথিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান 'অবরোধবাসিনী'র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলের সান্ধ্য আইন এক ঘণ্টা শিথিল করার প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে 'অবরোধবাসিনী' প্ল্যাটফর্ম। সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানানো হয় এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলের সান্ধ্য আইন এক ঘণ্টা শিথিল করার প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে 'অবরোধবাসিনী' প্ল্যাটফর্ম। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইশরাত জাহান ইমু, অদিতি ইসলাম এবং তানজিলা ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে 'অবরোধবাসিনী' প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩০ জুলাই থেকে মূলত তিনটি দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে এই প্ল্যাটফর্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্বাধীনতার ওপর বিভিন্ন বিধিিনিষেধ ও সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্য বরাবর দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে ১ হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন ছিল। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হলের নিয়মনীতি শিথিল ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রশাসন থেকে সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের হলে রাত ১০টার মধ্যে প্রবেশের বিদ্যমান সীমা এক ঘণ্টা শিথিল করার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু 'অবরোধবাসিনী' প্ল্যাটফর্ম এই আংশিক শিথিলের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সান্ধ্য আইন এক ঘণ্টা শিথিল নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উল্লিখিত দাবি আ আদায়ের লক্ষ্যে 'অবরোধবাসিনী'র ব্যানারে রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীরা সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু, বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মতো বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, সান্ধ্য আইন এক ঘণ্টা শিথিল করার যে প্রস্তাব প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাব মানছেন না এবং সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।








