ঢাবিতে ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বা ১০টার কারফিউ বাতিলের দাবিতে সংহতি সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিন দফা দাবি জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বা ১০টার কারফিউ বাতিলের দাবিতে সংহতি সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক নিয়ম বাতিল করা এবং তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত তথ্যানusarge অনুযায়ী, এই সান্ধ্য আইন কেবল ছাত্রীদের হলের জন্যই প্রযোজ্য, যা পুরুষ ছাত্র হলগুলোর জন্য প্রযোজ্য নয়। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
সংহতি সমাবেশে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নানা বৈচিত্র্যময় পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর ভর্তির হার বর্তমানে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে উচ্চশিক্ষার পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে।
বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী পুরুষদের প্রায় অর্ধেক বা ৪৭ দশমিক ১৩ শতাংশ আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে, একই শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এছাড়া দেশের সামগ্রিক নারী শ্রমশক্তির চিত্রও উদ্বেগজনক। বিবিএস শ্রম জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের নারী শ্রমশক্তি ২০২৩ সালের ২ কোটি ৫৩ লাখ থেকে কমে ২০২৪ সালে ২ কোটি ৩৭ লাখে নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএলও-এর মডেল হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৫১ শতাংশ।
সমাবেশে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। বিবিএস সময় ব্যবহার জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, নারীরা দৈনিক গড়ে ৫ দশমিক ৯ ঘণ্টা গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজ করেন, যেখানে পুরুষেরা করেন মাত্র শূন্য দশমিক ৮ ঘণ্টা। বৈশ্বিক জেন্ডার গ্যাপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়ক পদের ১০ শতাংশের কম আছেন নারী, এবং বাকি প্রায় ৯০ শতাংশই পুরুষ।
পরিশেষে, নারীর নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়টিও সামনে আনা হয়। বিবিএস সহিংসতা–বিরোধী নারী জরিপ অনুযায়ী, বিবাহিত নারীদের প্রায় ৭০ শতাংশ স্বামীর দ্বারা কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং ৫৪ শতাংশ শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব বৈষম্য ও সামাজিক বাধা দূর করার লক্ষ্যেই ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই সংহতি সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালিত হয়।








