ঢাকায় শব্দদূষণ: অটোরিকশার বিস্তার ও হর্নে বাড়ছে দুর্ভোগ
রাজধানীর সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল এবং অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহারে তীব্র হচ্ছে শব্দদূষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে সরকার।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহারের ফলে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে শব্দদূষণ। এই পরিস্থিতি নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে দেশের পরিবহন খাতের একটি বড় চিত্র উঠে আসে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান যে, বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত এই বিস্তার যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন যান যুক্ত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন রাজধানীতে প্রায় ৩০০টি অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে হর্নের শব্দ এবং সামগ্রিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালের নতুন বিধিমালা করেছে, যাতে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের জন্য তা ৪০ ডেসিবেল।
এছাড়া অন্যান্য এলাকার জন্যও সুনির্দিষ্ট মাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় দিনের শব্দের সীমা ৫৫ ও রাতের ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় শব্দের সীমা ৬০ ও ৫০ ডেসিবেল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় শব্দের সীমা ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিধিমালার বাস্তবায়ন ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে অভিযান চলছে। পরিবেশ অধিদফতর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ৫৬৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের এই মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোট এক হাজার ৮১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের দায়ে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ শব্দদূষণের দায়ে দুই হাজার ৬২৭টি হর্ন জব্দ করা হয়েছে।








