ঢাকায় ভূমি অফিসে হয়রানি রোধে ডিসির কঠোর নির্দেশনা
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ভূমি অফিসে হয়রানি ও দুর্নীতি রোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের উল্লেখযোগ্য অর্জনের চিত্রও তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম ভূমি অফিসে হয়রানি ও দুর্নীতি রোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় ভূমি সেবার মান নিয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে ফরিদা খানম বলেন, ভূমি অফিসে একজন নাগরিক কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নিতে আসেন না; তিনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সেবা নিতে আসেন। তাই নাগরিককে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি নৈতিক কর্তব্যও।
সেবাগ্রহীতাদের অধিকার ও সন্তুষ্টির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ফরিদা খানম আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলায় ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য খাতের রাজস্ব আদায়ের একটি বড় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বা দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে সফলভাবে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, দাবির তুলনায় ঢাকা জেলায় ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের হার দাঁড়িয়েছে ১১০ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু সাধারণ খাতই নয়, অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর থেকে ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের অংশ হিসেবে অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ মোট ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই অর্জনগুলোকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব খাতে সরকারের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।








